রাইকমল
রাইকমল? ও রাইকমল!
বলো বলো তোমার কুশল শুনি
তোমার কুশলে কুশল মানি
বঁধু আমার দুঃখ কিছু না গণি
তোমার কুশলে কুশল মানি
কিন্তু কুশল যায়, আসে না। কোন অলকানন্দার তীরে, অন্নপূর্ণার পায়ের কাছে, তুঙ্গনাথের দেহলীতে উড়ে যায় কুশলসংবাদের নীলকণ্ঠ। সে বড়ো দূর। নীলকণ্ঠের রাঙা রাঙা পায়ে চিঠির আশমানি সুতো বাঁধতে বাঁধতে রাইকমল বলে, পাখি, ও পাখি? এইবার ফিরে আসবি তো? বল, দেখে আসবি তো? পাখি, সত্যি যদি ভালোবাসিস তো মাথা খাস, বল ফিরবি?
কিন্তু সে যা দূর, যা দূর! উড়তে উড়তে নীলকণ্ঠর বুঝি খিদে লাগে না? তেষ্টা পায় না? সেইই যেখানে যেতে হবে তার ঠিক আগেই বুঝি বাগান নেই, যেন নন্দনকানন? সে বাগানে রুপোর ডালে সোনার পাতা এক গাছ, তাতে মাণিকের ফুল, মুক্তোর ফল। নীলকণ্ঠ সেই রুপোর ডালটিতে বসে এতোটুকু জিরেন নেয়, সোনার পাতাটি ঘুরিয়ে এতোটুকু হাওয়া খায়, মাণিকের ফুলে ঠোঁটটি ডুবিয়ে মধুটুকু খেয়ে, একটি দুটি মুক্তোর ফল খেয়েই উড়ে যেতে চায়। কিন্তু হায়! রুপোর ডালে যে সুতাশঙ্খ বিষ ঢেলে রেখে যায় রোজ! চিঠির ওই আশমানি নীলটুকু যে তার চাইই চাই! তাই নীলকণ্ঠের ডানা ভারি হয়, চোখ ঢুলে আসে, ফুলের মধুতে নেশা লাগে, ফলের রসে ঘুম নেমে আসে ধবধবে সাদা শীতের মতো। নীলকণ্ঠ ঘুমিয়ে পড়ে। তার পা থেকে রাইকমলের চিঠিটুকু চুরি করে নিয়ে রুপোর ডাল থেকে দোল খায় আশমানি রঙের সুতাশঙ্খ সাপ। খবর যায় না, আসে না। রাইকমল জানতেও পারে না। অপেক্ষাই সার হলো, রাইকমল, তাহলে আর তোমার কী রইল গো কন্যে!
রাইকমলের জন্য রইল অফুরান পথ, আর উজাগর বাতাস। আর রইল বাতাসের বুকে তুলোর ফুলের মতো ভাসিয়ে দেওয়া, ভালো আছি, ভালো আছি, শুনছ, ভালো আছি।
ছবি: রেনেসাঁ
Comments