ক্ষণজন্ম
"ঐ একটা লাগে রে লাগে রে মাথা থেকে গা থেকে বের করা যাচ্ছেনা। মাতৃভাষা। সবেতেই মা জড়িয়ে। সব আঘাত স্ত্রীলিঙ্গ।"
কখনো জলের ছবি আকাশের গায়ে। প্রস্তরপটের বুকে সম্রাটের নখরক্ষত যারা যারা এঁকেছিল তারা সব চলে গেছে ধানক্ষেত আলপথ গঞ্জের হাটেমাঠে নয়ানজুলিতে। চলে চলে মিশে গেছে সম্রাটের সৈন্যভার দুন্দুভির কাঁপনের মতো। রাজা, তুমিও তো ঠাঁই পাও নাই! তোমার পায়ের চাপে পাথর গুঁড়িয়ে মাটি হলো, তার পরে হলো জল, শেষে চোরাবালি। এখন গরল খুঁড়ে সোনা আর অগ্নিগুলি অধঃপ্রজ্বলিত হয়, শ্বাসে ওড়ে কপর্দকগাথা। এইসবই পুড়ে যাবে, ছাই হয়ে যাবে। মহাকাল অসাম্যের দায়ভার কাঁধে তুলে ত্রিশূলের অগ্রভাগে টেনে তুলবেন যাকে, সেই হবে পুনর্নবা, মাটি।
মা-টি, মাটি, মৃত্তিকাটি, আমার সম্ভাষে তার সম্ভোগপ্রবীণা হৃদি সুপ্রতুল হয়। কিছুকাল আমারই থাকে সে। আমরা সকলেই জানি, বুঝি, এ আমারই সম্পৃক্ত মাটি, আমি আলগোছে কোদাল চালাবো, আমি ফসলের ভারে ডুবে যাবো। তবু এই শতপ্রসবিনী আজো কারো হয় নাই, ভুলে যাওয়া রোগ আমাদের। আমাদের ক্ষণজন্ম, সেও ভুলে যায়।
এই যে মাটি রে, বাপা, এর জন্য জন্ম চলে গেল।
ফি-বচ্ছর বন্যা আসে, নুনসর পড়ে। সেই লোনা দুঃখভার তুলে ফেলে দিই। বাপ-ঠাকুদ্দায় দিত, আমিও দি, তারও আগে পলি পড়ত, নুন ছিল কম। আজকাল বুড়ি মাটি রাঁধতে ভুলে গেছে। অমন আমার মাও দুপুরে উঠোনে বসে কুড়নো পাতার জ্বালে আস্কে পিঠের খুরি ঘন গুড় মাটির সরায় ঢেলে হাতে হাতে দিত। ও মাটি আমার বুড়ি মা রে, এখন পায়েসে ভুলে নুন ঢেলে দিস তোর কান্না বড়ো সহজ হয়েছে। ঘুরে ফিরে লবণাক্ত রক্তস্নান, লোনা জল, চোখের, বুকের।
Comments