শূর্পণখা

যতো কাছেই যাই
খর ও দূষণ এসে পাশে বসে, কথা বলে দেনাপাওনার।
ওদের সে বোন আজ কয়লাশহরের শ্রমিক-ইস্কুলে কাজ করে।
বাচ্চাদের সঙ্গে বসে মিডডে মিলের পাতে; রেণুকা ডোংরে কোটায় চাকরি পাওয়া,
তার সঙ্গে রুটি ছিঁড়বে কারা?
নাক তো এখনো কাটা যায়।

যতো কাছেই যাই,
লম্বা ধার নখ দিয়ে
রেণুকা গাল থেকে জলের দাগ মোছে।
ওদের খেড়েয় জল নেই। যে বছর হৈজা-মারীচ এসে গ্রাম-কে-গ্রাম ডেকে নিয়ে গেল,
সেবার রেণুকার পুরুষটিও চলে গেল নির্বাসনে।
রেণুকা এখনো কান থেকে অভ্যাসবশতঃ
খুলে রাখে রঙ-করা স্টীলের মাকড়ি
তারপর উচ্চৈঃস্বরে গাল পাড়ে
ওর মরদের নাম ছিল রঘু

যতো কাছেই যাই
শুধু সেই নারীকে দেখি, হে মনোরম,
তোমার অভাব যাকে ক্রমশঃ পুরুষ করে দিল।
সে রাক্ষসী স্বর্ণসীতা রোজ নিজের গা থেকে একটু একটু করে খুলে নেয় ছাল-বাকল।
তার ঘরে অনেকগুলি মুখ, খিদে।
সে বলে, আজকে বাজরীর রুটি মাত্র দু'খানি কিন্তু লংকার খুব ঝাল আচার শেষ; তা'হোক, নতুন আখ উঠেছে কিছু। আমার জোয়ান গতর, রুটি দু'টো বেশি লাগে বটে; কিন্তু খাটতেও তো পারি দুই মুনিষের সমান একাই?
ও'বাড়ির ভালো বৌদিদি কি ছেলেটাকে দেবে না দু'মুঠি, বলো?
তার চারপাশে
মরা ছেলের নামে লেখা শ্বশুরের এক একর ধূ ধূ জমি
আর
বৃষ্টির সমস্ত প্রাদেশিকতা

Comments

Popular Posts