কাঠপুতলি

উড়নচণ্ডী জুড়োন চণ্ডী এক চণ্ডী নাশেন 
এই সন্ধ্যাকালে অন্তরালে আরেক চণ্ডী হাসেন
আরে হা হা হা 
এই আনন্দাক্ষে কমলবক্ষে উচ্ছলিত সুরা
আর মাতৃস্থানে চাঁদের পাহাড় পেটের ওপর পোড়াক
তার নাভির পাশে
তার নাভির পাশে অনন্ত পাক নক্ততারাগ্রাসে
আর হায় মা চণ্ডী উথালপাথাল গর্ভজলে ভাসেন 
আরে হা আরে হা আরে হা হা হা 

তাহলে বুঝতেই পারছেন, ডাক্তার, 
আমার পূর্বনারীরা সবাই আমরণ ঋতুমতী ছিলেন
তারা সবাই অখণ্ডগর্ভা সহস্রবীজবতী ছিলেন
আমিও 
এই আমার নষ্ট জরায়ুর সর্বত্র
অজস্র ভ্রূণবীজ ধারণ করেছি
যাদের কেউ ডাকেনি
যাদের কেউ চায়নি
যারা অকালস্রাবে ভেসে যায়নি
যারা আস্তাকুঁড়ে পচে যায়নি
যাদের মায়েরা গর্ভপাতের সময় কুবাক্যে কুণ্ঠিত হয়ে নিজেকে আমরণ ধিক্কার দেয়নি
যারা সুগঠন, সুস্থ, আনন্দিত
অমৃতস্য পুত্রাঃ 
তারা সব জমে আছে আমার নাভির চারপাশে
পাক দিচ্ছে আমার এই অনন্ত নাভিনক্ষত্রপুঞ্জে
এক পাক দু' পাক তিন পাক 

ঠুকরে ঠুকরে ভাঙ্গা ঘুম গুঁড়ো গুঁড়ো মাঞ্জার মতো সটান এক পাক দু পাক তিন পাক তারপর ভোঁ কাট্টা ভোঁ কাট্টা ভোঁ ভোঁ কাট কাট মাথা কাট দণ্ডমুন্ড অস্থিরুচি মেদমজ্জা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঠুকে ঠুকে শান দিয়ে ঝাল দিয়ে রাংঝাল দিয়ে মসলাপাতি দুই চা-চামচ লেবুর রস আর তিনটে কুচনো লঙ্কা নুন স্বাদ মতো আর চিনি কিন্তু একদম নয় দিয়ে দেখুন দিয়ে দেখো দিয়েই দ্যাখ না দিন না দাও না দাও না ছেড়ে ছেড়ে দাও একবার একবার ছাড়ো এই ব্রহ্মাণ্ড অম্লরসে জরায়ুতে যোনিমুখে রক্তে নাভিতে নাড়িতে পাআক দিয়ে পাআক দিয়ে পাক দিতে দিতে এক পাক দু পাক তিন পাক আর এই উঠছে উঠে যাচ্ছে আহ বমি মদ বমি অম্ল বমি রক্ত বমি জগন্ময় জগন্নাথ দারূব্রহ্ম জয় জয় জয়

জয় হোক গড় করি ও বাপা জগন্নাথ, আজকের বিক্রি ভালো হোক, এই দ্যাখো কেমন তাজা বেসাতি এনেছি
কুমীরের মধ্যিখানে ও কী?
এক বুড়ি বসিয়া বেগুন বেচিতেছিল
নাও নাও নিয়া যাও, চার পয়সার লাউ তিন পয়সার বেগুন
নষ্ট শসা, পচা চালকুমড়ো, কালো সুন্দর তেল-চকচকে বেগুন 

বুড়ি নয়, ওকে চিনি
রাজকন্যা? হা হা হা, ও রাজকন্যা? 
রাজামশাই, দেখি?
ঘুঁটেকুড়ুনি দাসীটি, পেট কেটে বেরোলো কী?

ও মা, ও মা, এ যে দেখি এক কুকুরছানা! 

(নেপথ্যে শিকলে টান, ঝনঝন ঘন্টার শব্দ)

ও মা, ও মা, এ যে দেখি বেড়ালছানা! 

(আবার ঘন্টাধ্বনি)

ও ম্যা গো, এটা কী? এ তো দেখি কাঠের পুতুল? 

(থার্ড বেল পড়ে গেছে, নাটক শুরু।)

Comments

Popular Posts