রঞ্জাই

অপেক্ষা করতে করতে করতে করতে আমি হিসেব কষে মুখ বাঁকিয়ে বলি, আঁ পানো শোকোলাত, সিল ভু প্লে। অথচ বাইরে বৃষ্টি, বাঁধানো চকোলেট-বাদামী পাথুরে রাস্তায় অগুন্তি সাদা বৃষ্টি, সাদা জলের ফুল। ফুলন্ত তোর্সা-রায়ডাক পথ আমার, যেদিন আমি নীলরঙের ছাতা নিয়ে বেরোই না, সেদিনই দেখা হয়ে যায় অকালে, আতান্তরে। তার দেখা কখনো মেলে না শুকনো চোখের দিনে, খিদেবেলায়। তখন তার আকাশজোড়া ন্যাড়ামাথা শকুনডানায় কেবলই বাজতে থাকে সেই ঘ্যানঘেনে টানা-টানা ভাঙা স্বরের গোঙানি, আবার যখন দেখা হবে, ওহে, হবেই। শুনছ, আবার যখন দেখা হবে, নতুন করে আলাপ করিয়ে দেবে কেউ, কাউকে বোলো না যেন আমার খিদে পেয়েছিল। বোলো না, ক্ষুধার্ত ছিলাম খুব আর রাস্তাটা ছিল তোমার। 

মেয়েটা একান্তই মেয়ের মতো ভেঙে যায়। জানো তো, ওইভাবে শুধু মেয়েরাই ভাঙতে জানে। কোবাল্ট নীল গ্লেজ করা নীটিং বোলের মতো টুকরো টুকরো হয়ে নয়। আয়নার কাচের মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে নয়। মিহি মাটি, বালির মতো। একমুঠো কুড়িয়ে নিয়ে তাতে বুনে দিতে পারো বীজ ধান। বসিয়ে দিতে পারো হলুদ শতদল ক্যাকটাস, গাঢ় নীল ক্যামেলিয়া। নীল রঙের ছাতা সরিয়ে নিয়ে ভিজে ভিজে আরেক মুঠো জড়ো করতে পারলে ছড়িয়ে দিয়ো তো ওই যেখানে আড়মোড়া ভেঙে পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে ধোঁওয়ার সাপ; ওর তলায় কোথাও আগুন লেগেছিল বৃষ্টি আসার আগের বছর, যখন সব রুক্ষ, রাগী আর পতিত।

মাঝেমধ্যে ধোঁওয়ার কাছে বসলে অবিমৃষ্যকারিতায় কান্না আসে। বমিও। সাঁইতিরিশ বছর পরেও আসে, দুধ গন্ধে। দুধ আর প্রত্যাখ্যান মিশে গিয়ে সুমিষ্ট পায়েস। 

মিষ্টি মিষ্টি গন্ধে ভারি বাতাস থেকে সরে আসি। বুলজঁরির জানলাভর জলছিটে। কে যে এমন করে রুয়ে রুয়ে কাঁদে, ভালো লাগে না। সামনেই এগারোতলার প্রলোভন। যাবো কি না ভাবতে ভাবতে    লিফট ছেড়ে এগিয়ে যাই সিঁড়ির দিকে। এ গা রো ত লা। ডাকো, জোরে ডাকো। আসছি। একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙে। সিঁড়িতে বিছিয়ে আছে ঘুমসবুজ ঘাসের চাদর। তাতে ছোটো ছোটো সাদা রোঁওয়া রোঁওয়া ফুলকারি নকশা। 

এই, যাবি? কী নাম রে তোর?

রঞ্জাই, রঞ্জাই।


Comments

Popular Posts