লীলাবালি ৮ কুব্জিকা
#
শোনো হে কথামালা শোনো হে গান
সিন্দুরবিধুর হলো প্রাণ
গোধূলি জ্বলে জ্বলে অন্ধ মেঘ
নূপুরধ্বনিতে পাতি কান
#
আজকে আলো নেই লোডশেডিং তাই
বারান্দায় নামে কুঞ্জবন
মাধবীলতাটির হরিণশিশুটির
ভবনশিখীদেরও মন কেমন
হাতের কঙ্কণে যে দাসী কিনেছিলে
করিল সে কি হেন সর্বনাশ
সোনার থালে বুঝি অন্নে দিল ছাই
রাখিল মৌরলা মাছের আঁশ
কমলদীঘি পাড়ে ঘাটের পৈঠায়
কোথা সে রুপোরং রাজার পুত
এনে দে জল তাকে সাত সমুদ্রের
আঁধারপুরীতলে পাঠা রে দূত
আমার সকালে যে পাথর জুড়ে জুড়ে
প্রাচীর গড়েছিলে হে জাদুকর
শতেক বৎসর গেছে কী জানো তার
এসেছে ভোর কতো রাতের পর
এই যে টেবিলের লেসের ঢাকা এই
ফলসা-পাড় দেওয়া শাড়িটি হায়
শতেক বৎসর কেটে কি গেছে মন
আছো কি আজো সেই প্রতীক্ষায়
আরো সে কতকাল থাকবে বসে মন
ভাতটি বাড়া তার জুড়ায় না
তুলসীমঞ্চে যে প্রদীপ দিয়েছিলে
আঁধারে জ্বলা তার ফুরায় না
রেশমি কুঁচি দেওয়া তালের পাখাটির
ঘোরানো হাতলের দিব্যি নাও
আকুলবরিষণ সন্ধ্যে-লাগা মেঘ
রক্তঝরোঝরো গগনে চাও
উপোসী দেয়ালের পাথরে ঠেকে পিঠ
পাথর জ্বলেপুড়ে কালচে ঘাম
আজ আষাঢ় হোক কিম্বা নাই হোক
আজকে ঘনঘোর বৃষ্টি নাম
আয়রে বাদল এই গগন ছিঁড়েখুঁড়ে
তেরোটি নদী জুড়ে আয় পাগল
ভাসিয়ে নিয়ে যাস আঁধারপুরী তুই
প্রাচীর ভেঙ্গেচুরে করিস তল
ভাসান শেষে পরে শতেক বৎসরে
মেঘের ছায়া সরে কী দেখা যায়
কমলদীঘিজলে পাতা ও ফুলতলে
রুপোর দুটি মাছ খেলে বেড়ায়
#
আলতাপায়ের ছাপ রেখে যাই
যে পথে গেলো সাঁই সে পথে
আলতো পায়ের ছাপ রেখে যাই
যে পথে গেলে সাঁই সে পথে
------------------------------------------------------
চিত্রশিল্পী : তৌসিফ হক
Comments