মন্তাজ
আমাকে হত্যা করার পর ও যখন ডার্করুমে টেনে নিয়ে গেল
আমি তখনো একটু উষ্ণ ছিলাম।
আমি দেখলাম, ও খুব যত্নে আমাকে শুইয়ে দিচ্ছে লাল ভেলভেট মোড়া একটা আরামকেদারায়। আমার এলানো ঘাড়ের নীচে খুব সাবধানে রাখছে গাঢ় নীল সাটিন কুশন
আমার একটা হাত ভাঁজ করে রেখে দিচ্ছে বুকের ওপর, যে হাতে ঘন গম্ভীর বার্গান্ডি নেলপালিশ পরছিলাম যখন ও ছুরিটা আমূল বসিয়ে দিয়েছিল পিঠে।
ও আমার বুকের মাঝখানে রাখলো সেই স্বচ্ছ স্ফটিকের গোলাপ, যার সোনালি পাতা, সোনার ডাঁটি, সেই যেটা আমি চুলে পরতাম মাঝে মাঝে ঘুমোবার সময়। আমার ডান হাঁটু অল্প ভাঁজ করে তুলে আনলো কিছুটা।
আমার অন্য হাতটা রইল এলিয়ে, হাল্কা অন্ধকারে। ওই হাতে তখনো রং পরা হয়নি
ও আমার লাল আঙুরের মতো থোকাথোকা চুলের গুছিগুলো একটা একটা করে টেনে এনে ঢেকে দিল মুখের বাঁ পাশ। তারপর একটা তুলি দিয়ে আমার ঠোঁটে আঁকলো স্কারলেট লিপস্টিক, যেভাবে বাচ্ছারা ধীরেধীরে রং ভরে আঁকার খাতায় ছাপা আপেলের সীমানার বুকে।
তারপর ও নিয়ে এলো সাদা সাদা ছাতা আর উঁচু উঁচু হলদে আলো। অনেকক্ষণ সময় লাগলো ওর সেগুলো পছন্দমত জায়গায় রাখতে। এতো সময় লাগলো যে আমি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলাম, আমার হাত পা আস্তে আস্তে শক্ত হতে শুরু করছিল।
সবকিছু নিখুঁত করে সাজাবার পর ও বার করে আনলো ওর সেই বিশাল ক্যামেরা। আর ছবি তুলতে লাগলো ঝড়ের মতো।
এখন, বাইরের ঘরে, কাচঢাকা বিশাল ফ্রেঞ্চ উইন্ডোর ঠিক উল্টোদিকে, আমার বিশাল বড়ো সাদাকালো ছবি।
দেয়ালে সাজানো, অমরত্ব।
তার নীচে, মেঝের ওপর, কাঠ হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা, ভুলে যাওয়া লাশ।
Comments