লীলাবালি ২ সরস্বতী
মাঝে মাঝে মনে পড়ে সেই বাড়ি সেই এক ঘর
জানলায় স্থলপদ্ম হাসে রোজ মা যাকে পুজোর
সাজিতে তোলে না শুধু মনে মনে দেবতার পায়
এই তো সংসারকথা, সব দিলে কিছু রয়ে যায়
এখানে এ পুঁথিপত্রে রোদে আর আদরে যতনে
যশোদাদুলালী সেও গর্ভসম মাতৃফুলবনে
অপাপবিদ্ধা মায়া, তারও পরে পার্বতীসকাশ
অমোহন গানগুলি, নিরুত্তাপ শিবগৃহবাস
কতো কিছু পারি নি যে, হে শাম্ভবী, রয়ে গেল বাদ
আক্ষেপের কথামালা, উদয়াস্ত রচনাপ্রমাদ
শ্যাওলাজড়ানো ঘট, অবিশ্রাম জল পড়ে গায়
কী ছাই সংসার বুঝি, কাছে গেলে ছায়া সরে যায়
অথচ হে বেদবতী, স্রোতস্বিনী, দিতির কুমারী,
সুরগান শোনোনি তো, একমনে দিয়েছিলে পাড়ি
যেখানে অক্ষরবৃত্তে অনন্তের অনলস ডাকে
তোমারি ওঙ্কারধ্বনি নির্নিমেষে ছাড়ালো তোমাকে
আজ আমি সহস্র নারী আমি আজ সহস্র পুরুষ
আমিই সহস্র কন্ঠে উৎসারিত কালের অঙ্কুশ
দীর্ণ ঈশ্বরবক্ষে, আমি লিখি তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ
আমিই বারুণিশঙ্খ, প্রলয়ের প্রণব নিনাদ
যে মেয়ে কবিতা গায় যে মেয়েরা গান ভালোবাসে
যে পুরুষ রুক্ষ হাতে চাঁদ আঁকে শিশুর আকাশে
যে মানুষ অঙ্গীকারে ছুঁয়ে দিল মানুষের মন
আমার প্রতিমা তারা, আমারই স্বকীয় দর্পণ
ওঠো হে অলঙ্ঘ্যবীর্য্যা, তুলে নাও ক্ষুরধারাকার
নির্বেদ কাহিনীগুলি, নিরীশ্বর লেখনী তোমার
শতমুখে ছিন্ন করো নিয়তির কূটকথাজাল
সদর্প স্বননে ভাঙো দৈবের মোহন আড়াল
যে জন্মে পেয়েছ বাক, সে জন্মে আরো পেতে চাও?
যে জন্ম পেয়েছো বাক্, সে জন্মে আর কী বা চাও!
কী ছার কলুষ নারী, তুমি আজ ভূমিজন্ম হও
Comments