রাত্রি 

আমাদের প্রচ্ছন্ন যুবা পাশে এসে বলে
ওইদিকে তৃণাঞ্চলে যেও না গো রাত্রি শোনো
ওখানে শ্বাপদ শত অমন নখর দাঁত তুমিও দেখো নি।
ম্লান হাসি। বলি ওহে সোম, ক্ষুধার বিভাব বুঝি দেখেও দেখো না! 
আজ রাতে নাচ হবে। মাংস হবে, কাঠকুটো চাই। এই ঘন শীতে
তুমি যে মল্লিকাফুল গলায় পরেছ তার দেহের
বিপন্নতা ঢেকে দিতে মৃগচর্ম শুকানো হয়েছে।
ওদিকে হ্রদের ধারে মেটে আলু, শাক, বুনো কুল।
অরণ্যপ্রহরী শ্যাম কিশোরের মতো
সোম ধীরে সরে যায়। ওর বাঁশি, করস্রোতে ভাসা
দুরন্ত মল্লিকামালা, পাথরের চূর্ণ অভিজ্ঞান
দূরে অপনীত হলে আবার হেসেছি।
চোখ নামিয়ে দেখি নিজের দুই হাতের দিকে।
উদগ্র নখ, আসন্নগর্ভা ব্যঘ্রী শ্বদন্ত দেখায়।
আজ রাতে নাচ হবে, সোম।
জগন্নাথ পাষাণ হও, তোমার কাঠে আগুন জ্বাল দিই
আমরা আজ মিলেছি এই রক্তে দোল রক্তে দোল উরু
জংঘা খুলে প্রবল লাল জিভের মতো উচ্চারণে কাঁপে
রাত্রি এসো রাত্রি এসো অরণ্যের লজ্জাহীনা রাত
মদের মুখে হব্যবহা এই দিয়েছি স্ফুলিঙ্গের ঢেউ
জগন্নাথ আগুন হও তোমার বুকে শিশুর মুখ ধরি

Comments

Popular Posts