অপরাজিতা
যে সব মেয়েদের মিষ্টি নাম হয়, তাদের আমি বড়ো ঈর্ষা করি। যেমন মধুরা, বাদল, রুচিরা। সীতা সতী সাবিত্রী নামের মেয়েরা বড়ো দুঃখী হয়, আমার বড়োদিদি কিনা বলতেন। তাদের ঘরবর জোটে না, কপালে সয় না। আর যাদের নাম হয় বেণু বীণা বাণী, তারা হয় খুব নম্রমধুর, গৃহের শোভা, সংসারের লক্ষ্মী। যদিও এই সমস্ত শাস্ত্রকথা শেষ অবধি প্রদীপের অপলক শিখায় নিভে যায়। কারো পাশে জ্বলতে থাকে অপরাজিতা নামের আলো। সে কোনো সুখের নাম নয়, কোনো আনন্দের নাম নয়। অপরাজিতা নামের মেয়েটির জন্য লেখা থাকে দূর দিকচক্রবাল। তার হাতে আখরোট কাঠের ভিক্ষাপাত্র, সহজাত কাষায়বসন। সে কিছুতেই বাড়ি ফিরতে পারে না। তার কোনো বাড়ি আসলে থাকে না। আসলে, খুঁজতে খুঁজতে সে, তারা, কঠিন হয়ে যায়, পাথর হয়ে যায়। সেই কাঠিন্যের নাম সহজ, নাম একা। এই রকম কোনো নাম মিষ্টি নয়। শুধু সহজ। ছুঁয়ে দেখো কতোটা সহজ।
আসলে, এ সব দেশ-গাঁয়ে একটানা বৃষ্টি পড়ে। ঘন নীল হয়ে আসে চিরল পাতার বন, সোঁদা গন্ধ ছাপিয়ে ডাক ওঠে মাটির। তাদের সেই অন্ধকার হিজলের, জারুলের পথে আজীবন, অকারণ বর্ষাকাল।
In the dark blue plains of my heart, even when it rains, it drizzles.
যেসব মেয়েরা দূরে চলে যায়, তাদের আর ফেরা হয় না। তাদের জন্য আকাশ আর বৃষ্টি, আর পথ আর বৃষ্টি। তাদের কোনো নাম মিষ্টি নয়। তাদের কেউ সোনাই বলে ডাকে না। যে সব মেয়েরা দূরে থাকে, তারা রোগা হয়ে যায়, আর কালো হয়ে যায়। তাদের কেউ বলে না, তোমার আসার পথে ফুল ফুটে আছে হে সোনাই।
Flowers along the field paths have bloomed. My heart, take your time to return.
Comments