৯
জানেন তো, ৯ সংখ্যাটা আমারও খুব ভালো লাগে। ৯ তারিখে আমি জন্মেছিলাম; যদিও জোর করে, তাও জন্ম তো। এবারের মতো সেই প্রথম আলো দেখা। তাই ৯ বললেই আমার মনে পড়ে নাভি, মনে পড়ে নেতি, নেতি। মুখটা খুব করুণ করে একবার নাইন বলে দেখুন, অজস্র না হয়ে যাওয়ারা শেষ হয়ে যাওয়ারা হারিয়ে যাওয়ারা এসে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইবে রাইনের ধারে আলপাইন জঙ্গল আর স্তূপাকৃত তুষারের বুকে। চারপাশে তখন আর আলো নেই, বরফের নীল-সাদা অন্ধত্ব আর পায়ের কাছে কুণ্ডলী পাকানো অশেষ একটা অদ্ভুত সাপ যে ভারি অন্তর্মুখী, কেবলই নিজেকে খেয়ে ফেলতে চায় আর সরু হয়ে যেতে থাকে তার শরীরের প্রান্তভাগ, যেন লাল রেশম দিয়ে বানানো চীনে ড্রাগন যার ৮১ ভাগ পুরুষ আর ৩৬ ভাগ নারী। সে ছেলেটির বুঝি কাঁধ পর্যন্ত ফলে থাকা কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, আলুথালু, সে রোগা ছোটমতো মেয়েটির হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলে, দ্যাখ ৯, জানিস তো, আজকে আমাদের এই জোড় বাঁধাটা হলো একেবারে আদিমতম যৌগিক লাকি নাম্বার। জোসেফাসের চালুনী আমরা পেরিয়ে চলে গেছি তাই আমরাই একেবারে প্রথমতম বিজোড় যুগ্ম, আমাদের পাশে থাকাটাই বিচ্ছেদ, বিরহই মিলন। আর মেয়েটি তাকে বলে শোন ৯, আমাদের শুরুতে নবরস, আর অন্তের দিকটায় বুড়ো জাদুকর মজকিনের সেই চাকাটা যার কোনো জ্যা পরস্পরকে ছোঁয় না, তবু কাছাকাছি থাকে আমৃত্যু। ওদের সঙ্গে-সঙ্গে আমিও হাঁটতে হাঁটতে যাই আর দেখি হাঁটতে পারছি না; আমার পায়ের তলা থেকে সুদূরে প্রসারিত হচ্ছে ডিজিটাল মূল, আর শাখা-প্রশাখায় ফুটে উঠছে একের পর এক আয়না। জানেন তো, ৯ ফিরিয়ে দেয় সবাইকে, জলের মতো, রুপো পরানো কাচের মতো? আমার পাশে বসুন, আমি ফিরিয়ে দেবো আপনার পাশে বসা, অনন্ত পর্যন্ত বসে থাকব এক পাশে। আমাকে দূরে সরিয়ে দিন, আমি আরো দূরে সরে যাবো প্রতিফলনের মতো অনিঃশেষ। আমার সেই সরে যাওয়ার ধর্ম হবে ফ্লোরিনের মতো তীব্র বিক্রিয়াশীল, তাতে চোখের জল সামান্যও মিশলে তৈরি হবে কী প্রখর অ্যাসিড, যাতে বুক পুড়বে, আর পুড়বে, আর পুড়বে।
জানেন তো, ৯ সংখ্যাটা আমারই মতো। শেষ একক, বিজোড়। একা।
Comments