সংলাপ

এ জীবন জলসত্র, মন প্রপাপালিকার মেয়ে
বিকিকিনি শেষ হলে যেতে-আসতে সে পথিক কোনো
একলা আষাঢ়ে যদি এসে বসে একটু জিরিয়ে
অঞ্জলিমাত্র তো জল, তার দাম নেবো না কখনো

দৈবিক ভাদ্রের মাসে পয়স্বিনী কুক্কুরীপ্রবণ
স্বগৃহে সে প্রতিবাসী, কথাজালে আপাতনিরীহ
মায়াবী গার্হস্থ্য শখে কলহমেদুর সেই দ্রব
যা রাঁধি সে যতো চিতা ততোটাই রসবতীগৃহ

অমরত্ব বলে সেই উত্তরের ছবিটিকে দেখি
দিন যায়; তবু ভালো, রাত যায় ন'মাসে-ছ'মাসে
অথচ কবিও নই, কবিতার প্রেক্ষাপট লিখি
দেখা হলে যা হবার তাকে আজ কে বা ভালোবাসে!

নাভিমূলে বিষ আছে অমার্জিত আঁচড় রেখো না

এ শহরে রোজই দেখি অনাত্মীয় ট্রাফিকের ভিড়ে
তোমার কফিনবাহী শকটের পাশে আনমনা
না লেখা চিঠির মতো কবিতা গাইছেন তু হি রে

শ্মশানে যে বসে আছে সে কী খোঁজে ছাইএর রঙে
ঘটশ্রাদ্ধ হলো যার সে কি আর শোনে ধর্মকথা
হলোই বা বৃন্দাবন, সে ভৈরবী অশুদ্ধ সারঙে
তার রক্ত লাল কবে ধমনীতে, ক্ষরণে অযথা

আকাশে অংশত মেঘ হৃদয়ের গোপন নগরে
সে হিরণ্যগর্ভ মেঘ ভারে হিমপ্রবাহের মতো
ধারে তো কাটে না শুধু ধমনীর পাশ দিয়ে ঝরে
বিপন্ন ছুরিকা, তার অহিংসাও অবসাদ-জাত

আকাশের উলটানো বাটি থেকে ঝরে পড়ে উচ্ছিষ্ট আলোর।
তুমি তাকে ভেবেছিলে নীল আর সেও কোনো আপত্তি করেনি।
আসলে তুমিও চাও চার অক্ষরের ডাক যা শোনায় ভালো
ধন্য মায়া কুহকিনী; ইচ্ছাদরে বেচে দিয়ে ইচ্ছামতো কিনি।

Comments

Popular Posts