লীলাবালি ১০ অপরাজিতা
একটা কালো লিপস্টিকের মতো ঘুম পায়| সেই যেটা পৃ এনে দিয়েছিল ৮০ মাইল ড্রাইভ করে, সান্তা ফে থেকে| সেটা কি ছিল অক্টোবর মাস, পাতা যখন সবুজ থেকে কমলা হয়ে যায়? হাতে করে এনেছিলাম নীল চিনেমাটির বাটিতে বসানো সবুজ বালির গাছ| তার গায়ে কাঁটা| আমারও|
এখন তো আলো নেই| এখন অন্ধকারের ছ'মাস| উপলক্ষহীন নির্জলা বাগানের গায়ে পাখি এসে বসে| সমস্ত খাবার শেষ, গাছ থেকে পুরনো পাখিরা সব খেয়ে উড়ে চলে গেছে; বীজেরা ঘুমাতে গেছে বহুকাল|
এই যে এখানে, দেখো, অনর্থক বেড়ালের আঁচড়ের মতো, এ আমার বাড়ি| পাঁচিল, পুকুর, ছাদ, কার্নিশে মৃত ম্যান্ডেভিলা, ঐ পাশে তেজপাতা গাছ, তার নীচে নিরন্ন প্রদীপ| কুয়ো ভর্তি যে লাল নীল মাছ ছিল তারা সব রাজপুত্র রাজকন্যা বহুদূর দেশে চলে গেছে| তাদের নিজস্ব বাড়ি গাড়ি অস্টিনের ক্লেয়ারের দুপুরের ছবি ভেসে আছে জলের পলকে| লাল নীল খাম থেকে বের করে চোখের তারার মতো ছবি| ছবি জল|
আচ্ছা শোনো, এই যে মোমবাতির আলোয় কাঁপছ তিরতির করে, তোমার কি নাকে এসে লাগে পুড়ে যাওয়ার গন্ধ? এই যে সেদিন, থ্যাঁতলানো বিড়ালছানা খুঁজতে খুঁজতে বিস্ময়ে নীল হয়ে গেলাম| চিরচিরে পাতাওয়ালা লতানে গাছ, তার মুখ থেকে কী আঁশটে গন্ধ, মা গো! ছাতিম? না, সপ্তপর্ণী না| বকুল, বকুল| দূর| কাছে গেলে তুমিও কি আরো জোরে কামড়িয়ে দেবে?
মা গো, এ পরবাসে| বাড়ি যেতে চাই| চিরচিরে সাদা পাপড়ি কমলা রঙের বোঁটা হাতে উড়ন্ত উপেক্ষার মতো বাৎসরিক ফুল, দাঁত দিয়ে চেপে ধরলে রক্ত পড়ে| এই দূর যেখানে শিউলি চিনতে পারিনি, তার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে চাই|
আমি কি পালিয়ে বাড়ি যাবো?
Comments