মোহনবাঁশি

লোকে বলে গম্ভীর মানুষ, একলা ঘরের কোণে পড়ে থাকে
সকালে উঠেই দেখো মেয়ে নিয়ে কী সুন্দর রোজ মাঠে যায়,
দিয়ে আসে স্কুলে। চালু ও প্রচ্ছন্ন যেন কোনো হাতঘড়ি, তাকে
তোলা থাকে সংসারের ডিম আলু সুসিদ্ধ ভাতের ধোঁয়ায়

আমিও সেকথা বুঝি। আপিসেও যাই আসি কোনোদিন ছুটি
নিই না পারৎপক্ষে, নিলেও পাহাড় জমে আমার চোখের
কাঁচের প্রতিসৃত বাটি ভরে আসে বিশুদ্ধ নীলের ভ্রূকুটি
সেই তীব্র বরফের, উষ্ণতার কী যে ডাক, কী যে বলি তোকে

ডাক প্রত্যাখ্যান করে ফিরে আসি, ছুটে যায় পক্ষীরাজ ঘোড়া
দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজে জ্বলে ওঠে ব্যস্ততার রক্তাভ নিয়ন
এখনো কবিতা পড়ে অসম্ভব খুঁজে যাই প্যাপিরাস পোড়া
হেলমেটে জমা হয় শ্বাসাঘাত, ঘামফোঁটা, শালিখের মন

তুই সেই কোনকালে গালি দিয়ে চলে গেলি পারে যমুনার
আমার মোহনবাঁশি কেড়েকুড়ে নিলি, বল দিবি না আবার?

৬ নভেম্বার, ২০১৭

ছবি: তৌসিফ হক

Comments

Popular Posts