মেহের

শোনো, যখন খুব ক্লান্ত লাগে, আমি দু'হাতে জড়িয়ে নিই এই চিনেমাটির পাত্রের অপ্রত্যাশিত আদর। আজ সতেরো বচ্ছর আমি ঘুমাই না, জানো। আমার মাথার চারপাশে সারাক্ষণ টপ টপ করে ঝরে পড়ে বৃহস্পতির কমণ্ডলুজাত জল, অনির্বাণ। তার ব্যতিচারে আমার চোখ জড়িয়ে আসে অমোঘনিদান, আমি পাগল হয়ে যাই। আর শোনো, এই যে অপরিচর পথে আমি চলেছি, আমার পায়ে বিঁধে যাচ্ছে অসংখ্য মৎসর কাঁটা। আমার ফেলে আসা পথ ফিরে দেখো, অরূপ, দূর থেকে কেমন কুসুমাস্তীর্ণ, রাঙা পায়ের ছাপে শোভন, সুন্দর। মাঝেমাঝে মনে হয়, কতোদিন যেন স্থির হইনি এক মুহূর্তের অবকাশে, শুধু চলেছি তো চলেইছি, আর পথের দু'পাশে আলেয়ার মতো জ্বলে জ্বলে নিভে যাচ্ছে হাহুতাশগুলি, ঝংকৃত অভিশাপগুলি, আমার সমস্ত পূর্বনারীদের অপূর্ণ সব আকাঙ্ক্ষা, অবভাস, তাদের প্রাণসুখের ছিন্ন গ্রন্থিগুলি। হায় পীর, এই ভার বহন করে করে আমার কাঁধ ছিঁড়ে পড়ছে। তবুও হাজার হাজার বছর ধরে অনুচিত্ত তোমাকে খুঁজে চলেছি, হে দূরের সহচর। আমাদের ফেলে আসা পথ ফিরে ফিরে দেখো, হে মুশকিল আসান। ওই ভূলুণ্ঠিত রক্তপুষ্পগুলিকে জল দাও। আমাদের পৌষ-সূর্যের ব্রতে ফুলচন্দন হয়ে এসো বাচনে, বাক্যে, এসো আমাদের সকল অযজ্ঞে। আমার এই ক্ষণিক মৃৎপাত্রে অযাচিত ঢেলে দাও হাজার হাজার বচ্ছরের মেহের, আশিস। 

শোনো পাগল, এইটুকু শুনব বলে এতো দূর ফকিরি নিলাম; এসো, আজ গুঞ্জরণে বলে যাও, তোমার হৃদয়, আমার হৃদয়, যা আমি, যা তুমি।

ছবি: তৌসিফ হক

Comments

Popular Posts