দ্বিতীয়া
বিরুদ্ধ শ্মশানে এসে অবিন্যস্ত সন্ধ্যা দেখা গেল
অব্যক্ত ধুনির আলো স্বৈরিণীর স্বতণ্ত্র শরতে
ক'দিন মৃত্যুর কাছে প্রিয়সঙ্গ লাভ হলে দেখি
নিরন্ন পৃথিবী বসে কোলে তার চণ্ডালের শব
মাসান্তে কয়েকদিন গাছেদের কাছে থাকা যায়
সযূথ বাতাসে যদি প্রত্যাখ্যান ভেসে নাও থাকে
প্রতিটি ক্ষতের রং লাল নাও হতে পারে জানি
তবু আজো নির্নিমেষে প্রতারিত হতে ভালো লাগে
কোনো কোনো পুরুষের ব্যবহার-যোগ্য ছায়া থাকে
(আত্মকাম ছায়াদের পিছু পিছু বিশ্বস্ত দেখেছি)
তাদের মতনই ছায়া ইদানীং নিজস্ব ধরণে
গাছেরা প্রতিষ্ঠা করে বসতে ও আরক্ত-বিবাহে
পরার্থ মোক্ষের সাধে গাছেদের গায়ে ম্লানমুখ
দ্বিতীয় নারীর মতো অনির্দিষ্ট ঘ্রাণ পাওয়া যায়
এহেন মাংসাশী ঘ্রাণ মাঝেমধ্যে কষ্ট দেয় কি না
সে কথা জিজ্ঞাসা করা বাতুলতা-বোধে ভুলে গেছি
প্রাজ্ঞ শরতে এসে হঠাৎ কুকথা মনে পড়ে
সমিধে প্রত্যক্ষ ছিল অযাচিত বালিকা আবহ
অধিকাংশ গাছেদের বিড়ম্বিত ছায়ার মতোই
আমিও আমাতে বাস করি। বিভঙ্গে, আরোহ-প্রমাদে
ক'দিন মৃত্যুকে ছুঁয়ে প্রিযসঙ্গ লাভ হলে বুঝি
নিটোল কবিতা কোনো এপর্যন্ত অধরা রয়েছে
এ কথাও মনে হয় রক্তপাতে বিমূঢ় গাছেরা
বিষণ্ন আমিষ ঘ্রাণে অস্বাচ্ছন্দে ক্লিষ্ট হয়ে যায়
দূর থেকে মনে হয় কলস্বর যাযাবরী ভিড়
পরভৃত পথচলা চোখে চোখ আঙ্গুলে আঙ্গুল
কাছে গিয়ে দেখি তারা সকলেই একা একা হাঁটে
অমোঘ, আলাদা । আরও যদি কাছে যাওয়া যায়
নিতান্ত কাঁচের মতো সরল মুখোশ-মুখগুলি
প্রতিসৃত হতে থাকে। কোজাগরী ভোর হয়ে এলে
অজস্র দহনকণা ছুটে যায় একাকী বাতাসে
শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাঁচ বেঁধে বিলোল-ভঙ্গুর।
২০০৫
Comments