লীলাবালি ১৬ অম্বিকা

চোখ বন্ধ করলেই আজকাল ডিমসেদ্ধর স্বপ্ন দেখি
না না, বিশিষ্ট কিছু না; হাঁস বা দেশি মুরগির ডিম তাও নয় আদপেই
নগণ্য সহজ ডিম, ভালো করে সেদ্ধ করা, পাশে একটু নুন
মন ভালো থাকলে আধবাটা গোল গোল কালো মরিচ দেখতে পাই
দুঃখ নিয়ে ঘুম এলে ডিমেদের সংখ্যা শুধু বেড়ে যায়, সঙ্গী বাড়ে না

এই সব ডিমস্বপ্ন ভেঙে ভেঙে প্রতিদিন খিদে ফেলে চলে যেতে হয়
সে বড় করুণ কথা, সামান্য জারানো।
তখন যেদিকে চাই বাতাসের ধুলোবালি প্লুতস্বর কলরব কিছুই টানে না
মনে হয় যেন ফেলে-ছড়িয়ে আলুথালু ঘাসের ওপরে বসে আছি
চারপাশে এক রাশ বাচ্ছা এদিক ওদিক খেলা করছে
কান্নাকাটি হাসি গান ঝগড়া লুটোপুটি কুটো পাতা উড়ে পড়ছে গায়ে পায়ে কোলে
তাদের আদর দিচ্ছি, বলছি দৌড়ে দৌড়ে মুখগুলো লাল হলো, একটু বসে যা
ছোট্ট খয়েরি বেড়ালছানা নখ বার করে এলে
তাকে বলছি মেরি রানী বিটিয়া, মেরি পরী, রাজদুলারী
জানলা দিয়ে মাঝে মাঝে যে রোদ আসে, তাকেও বলছি
সোনা, আয়, একটু বসে যা, মুখটা মোছাই

আরও যারা অন্য সব, অন্য কেউ, ওরকমই ছোট, তাৎক্ষণিক
অবয়বহীন, ভারহীন, প্রতীতি প্রতিমাগৃহ
ছায়ারূপ রূপালেখ আলোকে বিভ্রম
তারাও অনেকে আসে ঘরে বা চৌকাঠে
ফেরাই না
তাদেরও গেলাসে জল পিরিচে বাতাসা রাখা আছে

মন শুধু সেই
অবসন্ন বেলাশেষে রসুই-এর দরজাটা বন্ধ করে
পিঠ ফিরিয়ে বিরল ব্রাহ্মণী
একান্ন হবিষ্যি নিয়ে বসে
নিতান্ত সরল

Comments

Popular Posts