বিবাহ

বি

বলো যে কারো কাছে যাস না তুই
আমার থাক ওরে পাগলিটা
যাস না নীলফুল, আর কারোই
হোস না তুই আর এই ম্যাজিক !

পাহাড়টা বদলে যাচ্ছে এই ছায়া এই জল গড়িয়ে সমুদ্দুর
গাছ গাছ মৌমাছি রোদ্দুর
এক পা এক পা মৃত্যুর বাগান
এইখানে
এই লাইকেন-মাখা পাতার দোলনায়
ঘর বাঁধলাম
আমি ভাসিয়ে দিচ্ছি ঘর উড়িয়ে দিচ্ছি চুড়ো থেকে চুড়োয়
এই পা রাখলাম ও পাথর
তুই চন্দন-পিঁড়ি
আমি দেখছি জেফাইরাস বাঁশি বাজাচ্ছেন
ঝরা পাতার বাঁশি
তিনি দিচ্ছেন আমাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন ভাসিয়ে
চুড়ো থেকে চুড়োয় ইস! আমার ডানা
এই ভাসতে ভাসতে নামলাম কার হাত
উঠে দাঁড়াচ্ছি শিলাপট্টে, দেখছো  না,
আমি পৃথিবী
আমি সর্বংসহা
আমি জাহ্নবী
আমি উর্বরা
আমি মৃত্যু
এসো, আমাতে বাস করো

ॐ সহনাববতু

#

বা

বাণিজ্যপ্রভায় এসে সৎসঙ্গ ক্রমশঃ ভুলেছি। 
গন্ধের জলছবি শব্দছক ভাঙ্গা বিজ্ঞাপন
সিঁদুরে আবিল ঠোঁট আনমনে পোড়ানো দুপুর
সবই যদি সত্য হলো, হে গুণিন, তবে কেন ঝড়

অজস্র পথিক এসে ঠোকরায়, ছেঁড়ে বটফল
খাবারে ও খিদেতে কি সমন্বয়। শ্রেষ্ঠ দ্বিজবেশ
উত্তরীয়ে অনশন, যাবতীয় উপরোধ, বীণা,
প্রহরে সুরের দাগ, তবু জানি, তোমাকে চিনি না

কাঙ্ক্ষিত মৃত্যুরা মিলে সারে সারে শিয়রে দাঁড়ায়
কাঁটায় কাঁটায় কাল ঝরে গেছে প্রত্যাখ্যানগুলি
শরীরে মুহূর্ত গোণে নষ্ট মেয়ে, গুণে গেঁথে রাখে
পরে কিম্বা তারো পরে, দেখা হলে , ভালোবাসা নিও

আরতি লঙ্ঘিত হলো। অনভ্যস্ত দিবি আরোহণে
বহুমূল্য অবহেলা সাধ্যমতো আয়াসে কিনেছি
জঠরে প্রসন্ন বীজ অনটনে শতধা শরৎ
এসো শেষ মাল্যদানে, হে দয়িত, নয়নাভিরাম

#

আহা, বেঁচেবর্তে থাক বৃষ্টিজল, ভালো থাক
সুখের নৌকাটি আর ধানদুব্বো, কর্পূরসুবাস
অহিংস আস্বাদ লাগে। আহা, লোনাজল!
চুরি ও কবিতা কিছু, ছেঁড়াখোঁড়া ভিক্ষুকরমণী

তা'বলে ভেবোনা যেন খেতে পরতে পাই না কখনো
তোমার চোখেও এক লবণাক্ত নারীকে দেখেছি
লাইল্যাক ফুল হতে চেয়ে চেয়ে কিছুই না হয়ে
অতিদূর সমুদ্রের তটভূমি ছুঁয়ে দৌড়ে গেল সে
ঢেউ-কে পেলো না। আকাশ পেলোনা তাকে। সমুদ্র-ও না। 
এইসব দৃশ্যপট, অভিজ্ঞান, কারণবশতঃ
ক্ষুধাকে ক্রমশঃ শুধু ক্ষুধা বলে মনে হতে থাকে
এই তবে ভোরবেলা? হে কবিতা, লীলাবালিগান!

অবশ্য কবিতাও কখনো সখনো এই বিবর্তন
সহ্য করে। চোর -ও সাব্যস্ত হয়। রুগ্নবাক
নিষ্পিষ্ট ফুলের মতো ক্রৌঞ্চমৈথুন, ভাঙ্গাচাঁদ
আরূঢ় ভনিতা কিছু, মাধুকরী, তিলপিণ্ডদান

Comments

Popular Posts