আবাহনী


আমার উপনিবেশে আহত রক্তাক্ত সব গাছমেয়ে এনে বসিয়েছি। এ তাদের একান্ত বাগান।
ভাঙা ডাল, ছেঁড়া পাতা, ফুল্লকেশর বুকে অনিচ্ছার পরাগদলন
এই সব গাছ, মেয়ে, আনন্দ ভুলেছে
মাটি থেকে শিকড়বিথানে
জল নয়,
কান্না উঠে আসে

এই এক আমাদের ছিন্ন মহাদেশ
এখানে ঊষর মাটি সুখের শস্যমুখ কদাচ দেখেছে
সাম্বৎসরিক
স্বাতী নক্ষত্রের জলে সরস্বতী, সিন্ধু ভেসে যায়
অলকায় বন্যা আনে ভগবতীধারা
শতাব্দী প্রাচীন সেই দূরবাস জলবিভাজিকা জুড়ে সীমন্তিনী ঢল নামে,
উপদ্রুত কন্যাভূমি
শাশ্বতী সমান তবু সে কেবলই মনে মনে নিরন্তর মৃত্যুখেলা করে
এখানে আমরা যারা ঘর বেঁধে থাকি
তারা কেউ মল্লী নই, স্বর্ণচম্পা পারিজাত তবু
আমাদের খিন্ন রুগ্ন মুখে অরুণিমা ছায়া পড়ে ক্বচিদকখনো

এ ভূমিতে মাঝেমধ্যে আমরাও দেবীপূজা করে থাকি, সর্বজনীন
রীতিমতো ষোড়শোপচারে
ঘৃত তিল কর্পূর দূর্বা ফলোদক
কাব্য ও গান, মন্ত্র,
সুগন্ধাদি নিয়ে এসে পত্রপুটে রেখে
অষ্টোত্তর সহস্রটি নীলপদ্ম অভাবিত হয়।
দিকে দিকে খোঁজা শুরু হলে
হঠাৎ খবর আসে
দেবীর কমলবনে ফুটে আছে দেবভোগ্য ফুল

সে ফুল আনতে গিয়ে দেখি
স্বর্গের নির্জন উদ্যানে
দেবী একা বসে, তার
সভ্রমর নীলাব্জনয়নদুটি
উপড়ে নিয়ে পুজোয় থালিতে
যত্নে রাখা আছে

তিনি অন্ধ দু'হাত বাড়ান
আমাকেও, ওগো মেয়ে, আমারো সংসার নেই
ঘরবাড়ি নেই
আমি বলি মাগো, এসো, এ ছিন্ন ভুবনে
আমাদের মধ্যে চলে এসো
ইহাগচ্ছ
দেবি, ইহাগচ্ছ, ইহাগচ্ছ, নিত্যকাল
ইহ তিষ্ঠ, হেথায় বিরাজো

Comments

Popular Posts