আয়না

দরজা দিয়ে বেরোতেই একটু দূরে, ঐ রাস্তাটা যেখানে বেঁকে গেছে, অশত্থ্বগাছটার গা ঘেঁষে, ঐখানেই, নেকড়েটা মৃতদেহটাকে খাচ্ছিলো। পেটের কাছ থেকে খেতে শুরু করায় ততক্ষণে দেহটা দু'টুকরো হয়েই গিয়েছিল, নেকড়েটাকে যখন ওরা তাড়ালো। রোগা-ভোগা চেহারার মানুষটা, সেইরকম-ই চেহারা নেকড়েটারও। অথচ লাশ তুলে নিয়ে যাবার পরও, ঐ জায়গাটার ধারেকাছে কেউ যাচ্ছিল না। নেকড়েটা অবশ্য তাড়া খেয়ে এসে ঢুকলো পুরনো ইস্কুলবাড়ির পিছনের বাগানে। সামনের দিকের একটা ঘরে তখন আমরা ক'জন ইস্তাহার লিখছিলাম। দু'জন পুলিশ এসে বলল যা করছ ভিতর থেকে করো, বাইরে নেকড়ে ঘুরছে। It is so difficult to keep the wolf from the door. রাত হয়ে যাবার পর ওরাই আমাদের খাবার দিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে পরে একটা পুলিশ-ছেলে এসে আমাদের দেখে যাচ্ছিল, তার হাতে ব্যাটন, কোমরে একটা সুন্দর চামড়ার খাপে-ঢাকা পিস্তল। মাঝে-মাঝে দু'একটা কথাও বলছিল। এইভাবেই একচক্কর ঘুরে আসার মধ্যে আমি দেখলাম ছেলেটা কি যেন লক্ষ্য করে দৌড়চ্ছে। ওকে একা যেতে দেবো না বলে একটা খিল তুলে নিয়ে আমিও গেলাম, আমার পিছন পিছন আমার বন্ধুরাও সবাই।  হাত বিশেক দূর থেকে দেখলাম ছেলেটা ব্যাটন ছুঁড়ে মারছে দূরে এঁকেবেঁকে পাগলের মত দৌড়নো নেকড়েটাকে। ব্যাটনটা লাগলো মাথায়, পড়ে গেল পাগলটা।  ছেলেটা দৌড়ে গেল, আমি ভাবলাম বুঝি গুলি করবে। ও কিন্তু খালি রক্তাক্ত দেহটা তুলে উল্টো করে চাপ দিয়ে শিরদাঁড়াটা ভেঙ্গে ফেলে দিল। মরে গেছে ভেবে সবাই যখন পিছু হটছে, আমি কাছে গিয়ে দেখলাম পাগলটা তখনো বেঁচে, আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু বলছে। আমি খেয়াল করিনি, আমার হাতের খিলটা আসলে খিল ছিল না, ছিল একটা ছুরি। আমি ওর গলাটা কেটে দিলাম।

Comments

Popular Posts