আসা যাওয়ার পথে
তাহলে তোমাকে বলি, কজওয়ে, সেই মিলিটারি-ফেরত প্রৌঢ় জীপের চাকায় পিষে যাওয়া ভিজে ধুপিগাছের পাতার যে আস্তরণ পড়েছিল তোমার ওপর, আমরা সেই সবুজ কমলা পোকা-কাটা লালের জন্য দাঁড়াইনি। তখন জল ছিল না। পথের ঢাল বেয়ে সিমেন্ট বাঁধানো কালো চৌকো উঁচুনিচু পাথরে অল্প পিছলে সন্ধ্যার মহিষের মতো নেমে এলো আমাদের জীপ। দু'পাশে নদীর শুকনা খাত। বেলকুঁড়ি পাথর, অভ্রলাগা বালি, আমাদের ভালো লাগার অবসরটুকু নিমেষেই ক্লান্ত হয় যেমন তোমার চোখে নীল লাগে দূরের পাহাড়।
মোটকথা, বিশেষ কোনো গুরুত্ব তোমাকে আমরা দিইনি, কজওয়ে। এর চেয়ে ঢের বেশি মোহময়ী হতো সব উপলগতি তন্বী জলধারা। এমনকী, শহরের পথে চলে যাবার সময় একবারও ভাবিনি, জল পেলে তোমাকে কেমন দেখায়। অথচ আমরা তো সমস্ত বাড়ির সঙ্গে কথা বলি। এই যারা রঙ বদলে সেজে ওঠে যাদের ছোট নাতনির বিয়ে। যারা ম্লান হয় বৃদ্ধাশ্রমের মতো শুধু জরা, শুধু শ্রম, শুধু বিজয়ার প্রণাম জানবেন। কেউ হাতফেরত ওগো শুনছ এই ক্রীমটা কতো অন্ধকার এর চেয়ে বলেছি না বলেছি না বার্নট সিয়েনা আর কলাপাতা সবুজ? আরো যারা আসা যাওয়ার পথে দেয়াল জুড়ে অজস্র ম্যাগনোলিয়ার, অরেঞ্জ ট্রাম্পেটের পাতা উলটিয়ে পড়া বলে, শোনো জীবনগোঁসাই, স্বরে অ, হুঁউ, স্বরে আ, হুঁউউ।
তুমি কারো ঘর হতে চাইলে না, চাইলে না উপলক্ষ্য হতে। তোমার প্লাবন দেখলাম না আজো। আমাদের আসা-যাওয়ার পথে, কজওয়ে, প্রতিদিনই শুধু কিছু অনিবার্য বেড়াল রয়ে গেল।
Comments