লীলাবালি ১ সন্ধ্যা
ঘাট হতে অল্প দূরে
তখনো উঠিতেছিল মৃদুমন্দ ধূম
যে নদী গঙ্গা নহে তাহারো ললাটে
অস্তাচলগামী রবি আঁকিয়া যাইতেছিল দিনান্তের শান্ত শেষ স্নেহসম্ভাষণ
দূরে কোথা নাগরিক উপলসকাশে
বাজিয়া উঠিতেছিল মাঙ্গলিক শাঁখ
সম্মুখে, বালুকাতটে, গুটিকয় বৎস তার
ডাকিয়া ফিরিতেছিল দ্রুত চক্রবাকী।
চক্ষে জল দিয়া
ফিরিলাম গৃহপানে। আর কোথা যাব।
প্রস্তর সোপান বাহি উঠিতে উঠিতে
দেখিলাম কন্যা এক, আপনার মনে
খেলিতেছে ভগ্ন কিছু মৃৎপাত্র লয়ে।
আট নয় বৎসরের, ধূলিধূসরিতা
পরিধানে বস্ত্র তার ছিন্ন শতকুটি
কোনোকালে ছিল তাহা রেশমশাটিকা,
সুচিকণ রক্তাম্বর, আজি তার চিহ্নমাত্র আছে।
এ কি তবে ডোমকন্যা, মৃত্যুসহচরী?
বিশুষ্ক শাকান্ন কিছু তুচ্ছ পত্রপুটে
নিকটে পড়িয়াছিল, ছুঁয়ে দেখে নাই।
পদশব্দ শুনি, আমারে দেখিয়া সেই ক্ষুদ্র একাকিনী
বালিকা কহিল, আহা, এ শূন্য শ্মশানে
এসেছ কাহার তরে, এখন, একাকী?
আমি সন্ধ্যা, এইখানে থাকি। মোর কেহ নাই।
শ্মশানফিরৎ যাত্রী ক্বচিৎ কখনো
অন্নব্যঞ্জন কিছু দিয়া যায় মোরে।
কিছুক্ষণ থাকিবে কি?
ঐ দেখ গৃহ মোর, মোর পুত্তলিকা।
বালিকার রুক্ষ চুলে তখন উড়িতেছিল জ্যোতি:প্রভাময়
ক্ষণিক স্ফুলিঙ্গসম চিতাভস্ম ধূলি
বসিলাম পার্শ্বে তার, শিলাপট্ট 'পরে
কহিল বিনতি করি, আহা, বোসো দিদি,
মুখখানি শুষ্ক কতো, কতোকাল খাওনি কে জানে!
খাবে দুটো? এ সন্ধ্যায় নদীতে এসেছ
কেন দিদি, তোমারও কি ছেলে মারা গেছে?
সেই ক্ষীণা জলধারা রৌপ্যবর্ত্মিকার প্রায় তখন খুঁজিতেছিল দিগন্তের সীমা
যতোদূর দৃষ্টি যায় ধীরে অতি ধীরে
পৃথিবীর ম্লান বুকে নামিয়া আসিতেছিল ক্রমান্ধ গোধূলি
রাত্রিচর পাখিগুলি কুলায় ছাড়িয়া
তখন উড়িতেছিল দূর কোলাহলে
Comments