ফ্রেকির কাণ্ডকারখানা

তো হয়েছে কি, বড়োমন্ত্রী তো রাজকন্যার গুলিসুতো খেয়ে ফেলেছে। সেই যে লালসুতো নীলসুতো জোগাড় করে এনেছিল রাখীর দিন অনিচ্ছুক বাঁশপাতা ভাইদের পরাবে বলে?

এই অব্দি শুনেই কেষ্টা চেঁচিয়ে মেচিয়ে বলল চলবে না চলবে না প্ল্যাজিয়ারিজম মানছি না মানবো না মিটিন মিছিল জেউ জিবি কলেজ স্কোয়্যার।

আমি ভয় পেয়ে বল্লুম, থাম দিকি বাপু! এটা ম্যাওপুসির ছোট্ট গল্প। বলা মাত্তর পাশ থেকে ফ্রেকি বলে সাদা কম্লা ছানাটা যে কি না চারপায়ে লাফিয়ে উঠে জিন্স ধরে ঝোলে, ঘাড়ে মাথায় চড়েটরে কানের লতিটা চেটে দিয়ে বলে মিইইইইইইইউউউউউউউউ ফঁররর ফোঁত ফোঁত, সে এসে কোলে লাফিয়ে পড়ছিল আর কি! তাপ্পর তো গলা জড়িয়ে ধরে ভিজে ভিজে নাক গালে মুখে ঘষে দিয়ে আমার নাকটা কুটকুট করে কামড়িয়ে দিয়ে কি আদর কি আদর!

তো হয়ে গেল! আমার ও ঘুম পেয়ে গেল, চাপাটাপা দিয়ে গুটিসুটি হয়ে তো শুয়ে পড়েছি, দিব্যি গরম কম্বলখানা, বাইরে ঝরঝর করে বৃষ্টি আর চুলের ওপর গুটলি পাকিয়ে একটা গরম তুলোর বল। ঘুমিয়ে পড়তে পড়তেও লকেটটা নিয়ে লুফে লুফে খানিক খেলাধুলো করে তিনি তো ঘুম গেলেন, আহা যেন সোনার পালংকে মোতির ঝালর রেশমের চাদর, তার মাঝখানে সহস্রদল পদ্মের মধ্যে ফুটফুট টুলটুল করছে এই একটি এত্তোটুকুনি একরত্তি ম্যাওপুচি!

যা ঘটল, মানে যেটা ঘটনা আর কী, সেসবই হলো ঘুম থেকে ওঠার পর, আর বেরোবার আগে।

একদিকে ডাক্তারের অ্যাপো, অন্যদিকে পৃ নামক যন্তর যার ১৮৫১ তে নাম ছিল টোমাসন আর এরকমই ফোঁসফোঁস করত, এই দুইএর মাঝখানে স্যান্ডুইচ হয়ে তো বকুনিটকুনি খেয়ে স্নান করতে গেছি। ও বাবা! শ্যাম্পু করে চুল ধুতে গিয়ে দেখি বিপুল বিশাল জট সামনের চুলে, গোড়া থেকে ইঞ্চি ছয়েক বাদ দিলে চুলেচুলে জড়িয়েমড়িয়ে একশা হয়ে প্রায় ড্রেডলক তৈরী হবার উপক্রম! তাড়াতাড়ি চশমা গলিয়ে দেখি কেস স্রাংঘ্রাতৃক। ভয়াবহ জট তো পড়েইছে, যা কখনোই পড়ে না, তায় আবার তাতে আটকে রয়েছে, হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন, গোটা দশেক সাদা কমলা লোম আর সাদা সাদা মতো কী যেন! বুঝলাম, এ দুর্গতি থেকে একা উদ্ধার পাওয়া সম্ভব না, লোকবল লাগবে। অতএব বাথরোব-টোব গলিয়ে নিয়ে পৃকেই ডাকতে হলো। তো তিনি এসেই বললেন, এএএএএমাআআআআ বাআআবুউউ তোরচুলেকীহয়েছেএএএএ!! তাপ্পর তো তিনিও রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করলেন চিরুনি নিয়ে। একবার করে চিরুনি টানেন, একবার করে পড়পড়পড়পড় আওয়াজ হয়!

শেষপর্যন্ত, খুবই কাঁদো কাঁদো গলায় বল্লুম, পৃ, আর চুল ওপড়াস না, দেখ, এমনিতেই তো কতো বড়ো টাক! বরং কাঁচি দিয়ে কেটে দে জট পড়া অংশটা।

সাধারণ মানুষ হলে এটা শুনে খুবই ভয় পেতো বলে আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু হে হে, মনে রাখবেন আমরা কাকে নিয়ে কথা বলছি। মহীয়সী মহানন্দে বলিলেন, বটেক? রো'সো, চুলগুলাতে বাটি-ছাঁট দিয়া লই। দিব্য মানাইবে। বলিতে না বলিতেই, কে যেন ডংকায় ঘা দিল, সমস্ত প্রাসাদে যে যেখানে ছিল নড়িয়া চড়িয়া বসিল, ছায়াবাজির মতো কাঁপিয়া সে মায়াপুরী অদৃশ্য হইল এবং তিনি খপ করিয়া আমার চুলটুকু ধরিয়া ঘচঘচ করিয়া কাঁচি চালাইয়া সেগুলা কাটিয়া ঘপ করিয়া বেসিনের ঊপর ফেলিয়া দিলেন।

আমি প্রায় কান্নাকাটি করে বললুম, পাশগুলো একটু মিলিয়ে দিবি না? তাতে সেই পাষাণ-হৃদয়া বালিকা অপরূপ মুখভঙ্গী করিয়া বলিল, অতো সময় নাই, গাড়ি ডাকিতেছি, আগে হাস্পাতাল চল। কী আর করি,  নিজেই মাথার সামনের দু'পাশ একটু করে ছেঁটে ফেললাম। তারপর সবটুকু চুল পরিষ্কার করে ফেলে দিতে গিয়ে ভালো করে আবার দেখলাম।

হ্যাঁ, যা ভেবেছিলাম তাই।

কাজেই আবার, গরম জল দিয়ে শ্যাম্পু করে মাথা রগড়িয়ে ধুতে হলো। এবং ডাক্তারখানায় যেতে দেরী হলো।

কাল রাতে ফেরার পর যখন ফ্রেকি দৌড়ে এসে কোল বেয়ে ঘাড়ে উঠে বলল ফোঁত, তাকে আস্তে করে নামিয়ে নাকটা টিসু পেপার দিয়ে মুছিয়ে দিলাম।
ও হ্যাঁ, কাল রাতে আর চুলের ওপর ঘুমোতে দিইনি। ওর সর্দি না সারা অব্দি আমাদের কারো মাথায় ওর চড়া বারণ।

পুনশ্চ, খোপচা খোপচা করে চুল কাটার পর কী ভয়ঙ্কর ভূতের ছানার মতো দেখতে লাগছে তা বোঝানোর জন্য একখানি সদ্য-উৎপাটিত সেল্ফি দিলুম, হাসবেন না।

পুনঃপুনশ্চ, হাসছেন তো? সব দেখতে পাচ্ছি কিন্তু! আপনাদের উড়ো চিঠির বাক্সোয় আর একটিও চিঠি মেঘপিওন ভুল করেও জমা দেবে না, দেখবেন!  :'( >:(

Comments

Popular Posts